ঈদের দিন দূর থেকে বাবা ছেলের দেখা তবুও বাবাকে জড়িয়ে ধরতে পারেনি ছোট্ট জাবির

ঈদের দিন দূর থেকে বাবা ছেলের দেখা তবুও বাবাকে জড়িয়ে ধরতে পারেনি ছোট্ট জাবির

মোঃ নাজমুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃঃ ময়মনসিংহের ভালুকার উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ মহামারী করোনা প্রতিরোধে দীর্ঘ দুই মাস ধরে পরিবার পরিজন ছেড়ে জনগনের কল্যানে দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই।

ঈদুল ফিতরের আগের দিন রাতে ভালুকা উপজেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের ঈদ উপহার বিতরণ কালে বলেছিলেন তিনি দুই মাস ধরে পরিবারের থেকে বিছিন্ন হয়ে ভালুকার মানুষকে করোনা থেকে বাঁচাতে দিন রাত ছুটে যাচ্ছেন প্রতিটি পাড়ামহল্লায় অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তাসহ জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে! মানুষকে অনুরোধ করছেন ঘরে থাকতে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে,জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে বাহিরে বের না হন। তিনি তখন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেছিলেন ঈদের দিন কাল পরিবারকে ছাড়াই ঈদ করতে হবে! ঈদের নামাজ কাল অামার গ্রামের বাড়িতে পড়তে হবে ছোট ৯ বছরের আদরের ছেলে জাবিরকে ছাড়াই কিন্তু দুই মাস হলো জাবিরকে দেখিনা কাল ঈদের দিন তাই রাতে ঢাকায় পরিবারের কাছে যাবো এক নজর দুর থেকে তাদের দেখতে সকালেই ফিরবো ভালুকায়!

উপজেলা চেয়ারম্যান কালামের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঈদের দিন বাবা ছেলের সেই দুর থেকে দেখা কেউ কাওকে জড়িয়ে ধরতে পারেনি কিন্তু কি নিষ্ঠুর মহামারি করোনা যে ঈদের দিনও বাবার আদর থেকে ছেলেকে দুরে সরিয়ে রাখলো!ফেইসবুকে ছবিটা দেখে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি! বাবা-ছেলের এই ছবি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালামের সহ-ধর্মিনী শেফালি আক্তার মুঠোফোনে জানান,সবসময় ভালুকার মানুষের আশে পাশে থাকেন তিনি করোনা প্রতিরোধে জনগনকে সচেতন করতে! ডাক্তার, পুলিশের মত উনিও দীর্ঘ দুই মাস যাবত ফ্যামিলির সাথে দেখা করতে পারেন না, উপজেলার সরকারি কোয়াটারে নিজে একা একা থাকেন! যে ছেলে বাবাকে জড়ানো ছাড়া ঘুমাতে পারে না দীর্ঘ দুই মাস পরে আজকে ঈদের দিন দূর থেকে ছেলেকে দেখে চলে যান জনগনের সেবা করতে!

উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ তো এতটুকু না করলেও পারতেন,জীবনের ঝুঁকিটা না নিলেও পারতেন!কিন্তু উনার কথা একটাই ভালুকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে বিশ্বাস করে আর তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। সত্যি বলতে আমরা পরিবারের সকলেই উনাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছি একটু সাবধানে থাকেন কিন্তু উনি নিজের কথা চিন্তা না করে এখনও পর্যন্ত দিনরাত ছুটে চলছেন ভালুকার মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে। আমি ওনার মতো একজন দেশপ্রমিক জনপ্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যানের সহ-ধর্মিনী হয়ে সত্যিই গর্বিত! ভালুকার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম কোন জনপ্রতিনিধি ঈদের দিন সারা ভালুকায় বিচরণ করেছেন মানুষের খোঁজ খবর নিয়েছেন!

তিনি ভালুকার সকলের কাছে দোয়া চান যেন করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে জাবির তার বাবাকে আবারও বুকে ফিরে পায়।