আশরাফ উদ্দিনের মিথ্যা মামলার জালে ভাই মফিজ উদ্দিন ও ব্যবসায়ী রাজু- পর্ব ০৩

মিথ্যা মামলার জালে ভাই মফিজ উদ্দিন ও ব্যবসায়ী রাজু
মিথ্যা মামলার জালে ভাই মফিজ উদ্দিন ও ব্যবসায়ী রাজু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা এবং আপোষের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া যার পেশা তিনি হচ্ছেন আশরাফ উদ্দিন ( আশু খলিফা)। আশরাফ উদ্দিন আছিম পাটুলী ইউনিয়নের বাঁশদী গ্রামের মৃত নওশের আলী সরকারের পুত্র। জানাগেছে, আশরাফ উদ্দিনের মূল পেশা সুদের ব্যবসা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া । তার এসব মিথ্যা মামলা থেকে বাদ যায়নি তার আপন ভাই প্রফেসর মফিজ উদ্দিনও।

 

এছাড়াও সাধারণ মানুষ, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ মোটা অংকের অর্থ আদায় করা। আশরাফ উদ্দিনের এমনি এক মিথ্যা মামলার স্বীকার হয়ে জেল পর্যন্ত খেটে এসেছেন আছিম বাজারের ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ। ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ, আশু খলিফার আপন ভাই প্রফেসর মফিজ উদ্দিন, কালনাজানি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র আশিকুর রহমান, ভবানীপুরের রমজান আলীর পুত্র আশিকুল ইসলাম ও কান্দানিয়া জোড়ারপাড় আমিনুল ইসলামের পুত্র মাইনুল হক সিফাতকে সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন আশরাফ উদ্দিন(ফুলবাড়িয়া থানার মামলা নং ৩০)। মামলাটি যে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা স্পষ্ট হয়ে যায় আশরাফ উদ্দিনের মা রওশন আরা বেগমের আছিম বাজার কমিটির কাছে দেওয়া অভিযোগ থেকে।

 

আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার মা অভিযোগ করেন তার ছোট ছেলে মফিজ উদ্দিনের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা করে আসছেন আশরাফ উদ্দিন। এছাড়াও আশরাফ তার মেয়েকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মফিজ উদ্দিনের নামে আরেকটি মামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগসূত্রে জানা যায়। অভিযোগে উল্লেখ গত ০৮ জুলাই সকাল ৯ টায় মফিজ উদ্দিনকে তার মায়ের চোখের সামনে দা দিয়ে কোপ দেয় আশরাফ উদ্দিন এবং তার স্ত্রী লাঠি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে মফিজ সরে যাওয়ায় অল্পের জন্য বেঁচে যায়। পরক্ষণেই মফিজের পরনের লুঙ্গি টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং মারধর করে।

 

ঐদিন রাতেই আবার আশু খলিফা তার বাসায় পুলিশ ফোন করে নিয়ে আসে মফিজের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। এসময় তার মা রওশন আরা বেগম পুলিশের কাছে যেতে চাইলে, আশু খলিফা তার মায়ের গলায় দুই হাতে চেপে ধরে এবং টেনে হিচড়ে অন্য একটি রুমে নিয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখে। এরপর আবারো আছিম বাজারেই মফিজ উদ্দিনকে আবার মারধর করেন আশু খলিফা । আশরাফ উদ্দিন ও মফিজ উদ্দিনের মা রওশন আরা বেগম তার ছোট ছেলেকে মিথ্যা মামলা ও তাকে নির্যাতন এবং তার মেয়েদেরকে( আশরাফের বোন) নির্যাতনের বিচারসহ তার স্বামী সত্ব,মেয়েদের স্হাবর অস্হাবর সম্পত্তি তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে বাজার কমিটির কাছে অনুরোধ করেন অভিযোগটিতে। জানাগেছে এই ঘটনায় ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ, নিজের আপন ভাই মফিজ উদ্দিন, কালনাজানি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র আশিকুর রহমান, ভবানীপুরের রমজান আলীর পুত্র আশিকুল ইসলাম ও কান্দানিয়া জোড়ারপাড় আমিনুল ইসলামের পুত্র মাইনুল হক সিফাতকে সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে মিথ্যা মামলা করেন আশরাফ উদ্দিন।

 

এমন মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে এমন একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করার পর থানা পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে থানা পুলিশের যোগসাজশে এমন ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অর্থ আদায় করে আসছেন আশরাফ উদ্দিন ( আশু খলিফা) । এনিয়ে রাজু আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি অভিযোগ করার পর তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানাগেছে। সচেতন মহল মনে করেন তদন্ত সাপেক্ষে এই সুদ কারবারি, মামলাবাজ আশরাফ উদ্দিনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত করতে ব্যবস্হা গ্রহণ করবে প্রশাসন।