আনন্দ মোহন কলেজে ঝুকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা ও ক্লাশ বর্জন, দাবি সংস্কারের

আনন্দ মোহন কলেজ প্রতিনিধিঃময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ভবন এর ছাদ হতে আস্তর খসে যাওয়া, বৃষ্টি হলে ক্লাশরুম, সেমিনার কক্ষে পানি পড়া ও মেঝেতে পানি জমে থাকায় ভবন সংস্কারের দাবিতে আজ অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ও ক্লাশ বর্জন করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

জানা যায় গত বছরের বর্ষায় উক্ত ভবনের ক্লাশরুমের ঝুলন্ত ফ্যান পড়ে যাওয়া, ক্লাশ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপর আস্তর খসে যাওয়া, ক্লাশ ও সেমিনারের দেয়াল ও ছাদ বেয়ে নিয়মিত পানি চুয়ে পরা, মেঝেতে পানি জমে থাকা সহ নানান সমস্যা দেখা যায় তখন ঝুকিপূর্ণ এই ভবনের সংস্কারের দাবিতে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধান ও কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর দরখাস্ত দিলেও কোন ফলপ্রসূ সংস্কার করেনি কলেজ কিংবা বিভাগ কতৃপক্ষ, তখন বর্ষা চলে যাওয়ায় এই সমস্যা চাপা পড়লেও এবারের বর্ষায় যেনো এই সমস্যা আরো প্রকাটরূপ ধারন করে।

হুটহাট করে ক্লাশ চলাকালীন সময়ে এভাবে আস্তর খসে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য ভবনটি হয়ে উঠেছে আতংকের কারন, ভয়ে ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাশ পরীক্ষা দিলেও অনেক শিক্ষার্থী ঝুকিপূর্ণ এই ভবনে ক্লাশ করতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে, তারই পরিপেক্ষিতে আজ অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঝুকিপূর্ণ এই ভবনের সংস্কারের দাবীতে পরীক্ষা ও ক্লাশ বর্জন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়।

এই সময় প্রায় দুইশতাধিক শিক্ষার্থী আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহব্বায়ক ও উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম নাফিদুল জান্নাত শাওনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ এর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়, এই সময় ছাত্রনেতা শাওন বলেন বিভাগের ভবনের এমন সমস্যা নিয়ে আমরা গত বছর প্রশাসনের সাথে কথা বলেছিলাম কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি, এমন অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে ক্লাশ করছে শিক্ষার্থীরা আল্লাহ না করুক কোন দুর্ঘটনা হলে এর দায়ভার নিবে কে? তাই কলেজ প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানাবো যেনো উক্ত ভবন সংস্কারের মাধ্যমে শতাধিক শিক্ষার্থীদের আতংকমুক্ত করা হয়, এই জন্য শিক্ষার্থীদের পাশে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সরকার মোঃ সব্যসাচীর সহযোগিতায় আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগ সব সময় ছিলো এবং থাকবে।

শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগের ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সরকার মোঃ সব্যসাচীর সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন শিক্ষার্থীদের যে কোন সমস্যা সমাধানে ছাত্রলীগ সর্বদা তাদের পাশে ছিলো, তাই উক্ত ভবনের সমস্যা সমাধানে এবং শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগ দূরীকরণে আমি সর্বদা তাদের পাশে থাকবো।

এই সময় অবস্থান কর্মসূচিতে বিভাগের ভবনের এমন সমস্যা নিয়ে বঙ্গবন্ধু ছাত্র ফাউন্ডেশন ময়মনসিংহ জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উক্ত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শামিম ইশতিয়াক বলেন ক্লাশ কিংবা সেমিনারে যখন বসি তখন মনে ভয় কাজ করে, না জানি কখন ছাদ খসে আস্তর মাথায় এসে পরে, তাই প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই আমাদের এমন আতংক থেকে মুক্তি দিন, আজ পরীক্ষা ও ক্লাশ বর্জন করেছি, জীবনের আশংকা নিয়ে  এভাবে এই ভবনে আসা আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে, ভবন সংস্কার না হলে আমরা ভবন বর্জনে বাধ্য হবো ।

এই সময় ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী হৃদয় বলেন,  যেদিন রাতে বৃষ্টি হয় সেদিন সকালে বিভাগের সেমিনারে জমে থাকা পানি দেখতে পাওয়া যায়, পানি থেকে কাদা হয়ে একটা নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হয়, এসব থেকে আমরা মুক্তি চাই।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম নিরব বলেন জীবনের ঝুঁকি আমাদের ক্লাস করতে হয় এবং পরীক্ষা দিতে হয়, এবং প্রতিটা মুহূর্তে আতংকে থাকি না জানি কখন বড় কোনো দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, অর্থনীতি বিভাগের মত এমন ঐতিহ্যবাহী ডিপার্টমেন্টের এমন করুন অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক, তাই আমি আশা করবো ডিপার্টমেন্ট এর স্যাররা ডিপার্টমেন্ট এর উন্নয়নের প্রতি উদাসীন না থেকে অতি শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

অত:পর উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা শুনে তাত্ক্ষণিক জেলা শিক্ষা প্রকৌশলীকে অবগত করেন এবং অর্থনীতি বিভাগের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অফিসে যান সেখানে শিক্ষা প্রকৌশলী আগামী সোমবার সরেজমিনে ঝুকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শনে আসবেন বলে জানান এবং আগামী এক মাসের মাঝে উক্ত ভবন সংস্কার করবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।

১৯০৮ সালে আনন্দ মোহন কলেজের কার্যক্রম চালু হয় এখনকার এই সকল ভবনে যখন এখানে ততকালীন শিক্ষাবিদ আনন্দ মোহন বসুর প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি কলেজ বা ময়মনসিংহ কলেজ নামে কার্যক্রম পরিচালিত হতো, পরে মরহুম মৌলভি হামিদ উদ্দিন সাহেবের জমিদানে নতুন ভবন নির্মান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সংস্কার করা হয়, কলেজের সম্প্রসারিত ভবন নতুন হলেও প্রাচীন স্থাপনার সাক্ষী এসব পুরাতন ভবন তাই কলেজ প্রশাসনের পুরাতন ভবন সংস্কার করে বিশেষ করে অর্থনীতি বিভাগের এমন ঝুকিপূর্ণ অবস্থার সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রাচীন স্থাপনা সংরক্ষণে কলেজ প্রশাসনের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি তুলছেন শিক্ষার্থী মহল।