আজকের কবিতা সুলতানা

সুলতানা

———— কবি ফজলে রশীদ

সানকীভাঙ্গা গ্রামের ঐ রামচরণ ভিটায়

ছোট্ট টিলার পর,
হতভাগী সুলতানা থাকতো সেথা
বেঁধে ছাপড়া ঘর।
অসুস্থ মা’রে করতো সেবা
বাড়ি বাড়ি হাত পাতি,
এ মায়ের বুকেই হতভাগী সুলতানার
কাটতো দিবারাতি।
সাতটি বিয়ের পরেও সুলতানা
পায়নি স্বামী সংসার,
কুলাঙ্গারেরা যেতো ছেড়ে
শেষ হলে দরকার।
তাতেও সুলতানার দুঃখ ছিলনা
নিয়ে ঘটি বাটি,
আপন করেই নিয়ে ছিল
পরের ভিটে মাটি।
বাবা মরা, স্বামী হারা সুলতানার
নেইকো গুনের ভাই,
পাড়ার লোকদের বলতো জবাবে,
মাকে ছেড়ে কই যাই।
খাবার মেগে নিজে না ভোগে
কলাপাতায় করি,
রোগা মারে খাওয়াতো সুলতানা
উপোষের পেট ভরি।
মেয়ের কষ্টে বলতো মায়ে
ওরে আমার সুলতো, (সুলতানা)
মোরে হাত-পা বেঁধে পুঁতে রেখে আয়
করে মাটির গর্ত।
বাঁচিবার আর সাধ নাইরে
দিয়ে তুরে কষ্ট,
আমার জন্য তুর জীবনটা
কেন করবি আর নষ্ট।
কিসের কষ্ট মা এইতো হাসছি
দেখনা মা তুই চেয়ে,
এক বেলাও তুরে রাখবোনা উপোষ
নিজে থাকবো না খেয়ে।
কি দিয়ে আর করবে আড়াল
সুলতানার চোখের জল,
অর্ধছেঁড়া শাড়ী পরনে
নেই কোন আঁচল।
বুক ভেসে তার চোখের জল হায়
গড়িয়ে পড়ে নিচে,
এতিম করনা আল্লাহ আমায়
মা যেনো থাকে বেঁচে।
হঠাৎ, ভূমি মালিকের নোটিশ এলো
যেতে হবে ভিটা ছাড়ি,
তাই মাকে নিয়ে সুলতানা চলে গেলো
ভালুকার কাতলামারি।
যাবার বেলায় সুলতানারে দেখতে
আসে পাড়া পরশি,
সবার চোখেই মায়ার জল
মলিন করে হাসি।
কেঁদে বলে সুলতানা অভাগী
আমার হাতপাতার যত ঋণ,
এই রুগ্ন মায়ের মুখচেয়ে আমায়
মাফ করিয়া দিন।
এবার রুগ্ন মাকে নিয়ে অভাগী
উঠলো গরুরগাড়ী,
জন্মস্থানের মায়ায় পড়ে সুলতানা
চায় পিছন ফিরি।
ত্রিশ বছর পর নিতে খবর
ছুটে যাই স্মৃতির ডাকে,
আর যায়না দেখা চেরাগ আলো
বাতা বেরার ফাঁকে।
ভাঙা দেয়ালের মাটির টিবা আজো
পড়ে আছে সেই,
ঘরের চিহ্ন যায়নি মুছে
কেবল হতভাগী সুলতানা নেই।
মা মেয়ে আজো বেঁচে আছে কি
রাখিনা সে খবর,
হয়তো রোগা মা’টা  মরেই গেছে
ওখানেই হয়েছে কবর।