আজকের কবিতা আসিফ ইকবালের “বিক্ষিপ্ত শব্দ”

আসিফ ইকবাল আরিফ সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
আসিফ ইকবাল আরিফ সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিক্ষিপ্ত শব্দ

ধ্বনি বিক্ষিপ্ত শব্দ ধ্বনি কি শুনিতে পাও?

আশার পসরী কতবার ছড়িয়ে

দমকা হাওয়ায় দুমড়ে-মুচড়ে

কতবার যে মিশে গেছে

জনহীন পথের প্রান্তে এসে।

নির্জনের কোলাহল ভেঙ্গে

জনশ্রুতির দাবানলের দহন শেষে

মুহুর্তের ক্রন্দন ধ্বনিতে

হারিয়েছে স্রোতের তালে।

শুনিতে পাও, শুনিতে কি পাও?

হৃদয়ের আকুতি কেউ বোঝেনি

আত্মাটা শুকিয়েছে সহস্রবার।

কলকব্জা, আর শিরা-উপশিরার

খবর নিয়েছে কত শাস্ত্র জ্ঞানের

দীক্ষায় দীক্ষিত নোবিশ, আধপাকা আর পাকা পাকা ডাক্তার।

আত্মার খবর রাখেনি তো কেউ

দু’নয়নে মহাপ্রলয়ের ঢেউ।

অনেক সাহস দিয়ে একদা

এক গাছের ছায়ায় সাধু বাবা বলেছিলো

– আত্মার সুখ মেলে

পরমাত্মার সাথে আত্মার ছোঁয়া দিলে।

পরমাত্মার তো দেখায় মেলে না

কীভাবে ছুঁইবো তারে এই নবঘনে।

বলেছিলো সাধু যদি পেতে চাও তারে

মহাপুরুষের মহাবাণী করো পাঠ।

আত্মাটাকে কর এবার মুক্ত

নিশীতে চরা বিহঙ্গের মত।

কুঞ্জন ছাড়ো, গুঞ্জন ছাড়ো

ভাবের জগতে মিশে থাকো।

মসজিদ, মন্দির, গীর্জা,

প্যাগোডাসহ আর কত উপাসানালয়

ঘুরলাম আমি সেই পরমাত্মার খোঁজে।

লালসার চোখে ধরা দেয়নি যে

পরমাত্মা খেলেছে আমাকে নিয়ে

সব জেনে বুঝে স্বজ্ঞানে নির্জনে।

আচ্ছা আমার আত্মাকে কী আমি চিনেছি?

আমার আত্মাকে আমি চিনিনা।

তাকে না যায় দেখা, না যায় ছোঁয়া

সে বড় বর্ণচোরা খেচরের মত।

তবে কী বিজ্ঞান, যার আছে

বস্তা বস্তা জ্ঞান

কত কাগজপত্তর রাশি রাশি

সারাক্ষণ আঙটায় আটকায়

মানুষের মগজে ঝুলিয়ে লম্বা রশি।

না। না। না। বিজ্ঞানের জ্ঞান!

সেতো বড্ড নৈর্বত্তিক আর নিরপেক্ষ।

যা যায় না দেখা, যা যায়না মাপা

সে জ্ঞান তো বাতাসে ফাঁপা।

বিজ্ঞান আমার আত্মার দায় ছেড়ে

দেহ নিয়ে থাকে পড়ে আঁকড়ে ধরে।

পরিমাপ করে, কাটাছেঁড়া করে

আর কলকব্জ্বার আয়ু মাপে।

আচ্ছা। আত্মা বা মন কী

মনস্তত্ত্ব বিজ্ঞান বোঝে?

এটা বলা দুষ্কর মনস্তত্ত্ববিদেরা লষ্কর

ছাইপাঁশ কি ভেবে মনকে ভাবে তারা

রাতদিন হরদম বিরামহীন পাঠাগার।

ওহ! মনস্তত্ত্ববিদ?

সেতো এক মহাবিদ্যার কারখানা

মানুষের মন নিয়ে জানতে

ব্রেইনই তাদের পাঠের কারখানা।

তাহলে কী হলো ব্যাপার! চলছে কী খেলাঘর!

আত্মার কথা না শুনে

ব্রেইন নিয়ে পড়ে থাকার

আছে কী কোনো মানে তার?

তাই আমার আত্মার দায়

ঘুরে ফিরে ঐ সেই ধম্মের কাছেই যায়।

বিজ্ঞান চষে, মসজিদ, মন্দির

চষে আরও চষে ছাপ্পান্নো হাজার

বর্গমাইলের সব উপাসানালয়

মেলেনি আত্মার সুখ, মেলেনি আত্মার প্রসুখ।

আত্মা আর দেহ হলো দু’টি পক্ষ

কত মতভেদ কত মতবাদে চলে অবিরাম

যুগ যুগ ধরে এই দ্বন্দ্ব।

আত্মার সুখ কোথায় মেলে

সেতো আত্মায় জানে।

তাই বলে দেহের সুখ

সে কী আত্মার সুখের বাহিরে।

খন্ড-বিখন্ড, সব হয়েছে দ্বিখন্ড

আত্মা আর দেহের কত মিলনের দ্বন্দ্ব।

আর কত ভাগাভাগি, আর কত ভণ্ডামি

আর কত হবে মোদের শরীরবিদ্যার মেরুকরণ

আর শ্রেণীকরণের সারণি।

যদি শরীর জিগাও, সাথে জিগাও

আত্মাকে আত্মার সাথে শরীর জিগাও

বেঁধে দু’টি তার এক সুরে।

লেখক, আসিফ ইকবাল আরিফ সহকারী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়