অপারেশন নাইরোবি

অপারেশন নাইরোবি

১- মাসুদ রানার বুকের ভেতরের রক্ত ছলাৎ করে উঠল। মেজর জেনারেল রাহাত খানের চেম্বারে ঢুকলেই এমনটা ঘটে।
স্বভাবসুলভ মুখটা গম্ভীর করে রাহাত খান বললেন “তোমাকে এবার একটা ব্যাতিক্রমি অপারেশনে যেতে হবে। এই ফাইলে ডিটেইলস লেখা আছে। সামান্য ভুল হলেই এটা হবে তোমার জীবনের শেষ অপারেশন!”

২- স্পাইদের জীবনের সব অপারেশন ই শেষ অপারেশন মনে হয়। প্রতি মুহুর্তে জীবন যাওয়ার হুমকি। মারা গেলে দেশও অস্বীকার করে যে এই লোক স্পাই ছিল!
রাহাত খানের রুমের বাইরেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল দাঁড়িয়ে ছিল, মুখে দুষ্টামির হাসি “তোর জন্য সুখবর আছে। কেনিয়ায় তোকে রিসিভ করবে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুষ্পিতা। এই মেয়েকে তুই এখনো দেখিসনি। মেয়েটা একটা মাল ……. (প্রকাশের অযোগ্য) জিনিস।” একটা খাম রানার হাতে দিয়ে বলল “ভেতরে তোর ৩টা পাসপোর্ট আর টিকেট দেয়া আছে। আজ রাত ২টায় বৃটিশ এয়ারওয়েজে তোর ফ্লাইট। বোর্ডিং এ নাম বলবি ‘এনায়েতুল্লাহ!’

৩-নাইরোবী এয়ারপোর্টে মাসুদ রানা এর আগেও কয়েকবার এসেছে। প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে। এবার এসেছে ফিলিস্তিনি জিহাদী গ্রুপের নেতা আব্দুল্লাহ’র পরিচয়ে। সেজন্য তাকে প্রথম সৌদি তারপর লেবানন তারপর মিশর ও তারপর কেনিয়ায় আসার পথে আরো ২ বার পরিচয় বদল করতে হয়েছে।

৪-বিমানবন্দরের গেইটেই প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ানো এক আরব সুন্দরীকে দেখা গেল। প্ল্যাকার্ডে আরবীতে লেখা “…”। মাসুদ রানা লেখার চেয়ে মেয়েটির প্রতি আকৃষ্ট হলো। স্বল্প বসনা আরব মেয়েদেরকে আরবে কম দেখা গেলেও নাইরোবীতে দেখতে পারবে তা আশা করে নি। মেয়েটির কাছে আসার পরে মেয়েটি একটা গাড়ীর দিকে ইশারা করে বলল “পুষ্পিতাকে জীবন্ত দেখতে চাইলে ও গাড়ীতে গিয়ে বসো।”

৫- মাসুদ রানার কিছু করার ছিল না। একমাত্র কন্টাক্ট পুষ্পিতাকে হারানো চলবে না। গাড়ীর ভেতরে ঢুকতেই দুই পাশ দিয়ে দুইজন গান ম্যান প্রবেশ করল। সামনের সীটে সেই আরব মেয়েটি বসল। অবাক করে পুষ্পিতা ড্রাইভিং সীটে বসে বলল “হ্যালো মিস্টার মাসুদ রানা। দি ইজ পুষ্পিতা ফ্রম বিসিআই!”

৬-ফাঁদে পা দেয়া মাসুদ রানার জন্য নতুন কিছু না। কিন্তু আসল পুষ্পিতা কে? নাকি এই মেয়েটা নকল পুষ্পিতা? আর জয়েন করেই পল্টি মারল কীভাবে? পুষ্পিতার বাবা তো সরকারি বড় অফিসার। কীভাবে সম্ভব? মাসুদ রানার ঘাড়ে ইঞ্জেকশন প্রবেশ করানো হলো। এরপর তার আর কিছুই মনে নেই।

৭-ঘুম যখন ভাংগল তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। দরজা ভাংগার শব্দে ঘুম ভাংল৷ দরজা খুলে ৮/১০ জন কেনিয়ান পুলিশ প্রবেশ করল। সবাই অস্ত্র তাক করে আছে।

৮- আব্দুল্লাহ ওরফে মাসুদ রানাকে কোর্টে হাজির করা হয়েছে। আচরনেই বোঝা গেছে আব্দুল্লাহ সাজা প্রাপ্ত পলাতক আসামী। ভেরিফাই করতেই তাকে আদালতে আনা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ওরফে মাসুদ রানার ২৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কেনিয়ার উত্তর পূর্বে নাকুরু জেলে পাঠানো হলো। যাওয়ার আগে মাসুদ রানা জানল আগামীকাল তার আরেকটা মামলার রায় হবে। এই রায়ের ফলাফল একটাই “ফাঁসি”। দুই বছর আগে মিশরের আকাশে একটা কেনিয়ান বিমান ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনেছে কেনিয়ায় সিভিল অ্যাভিয়েশন।

৯- ২ দিনের মাথায় মাসুদ রানাকে ফাঁসির জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে স্থানান্তর করা হলো। ৭ দিনের মধ্যে রানার ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

গভীর রাত, কনডেম সেলের আশেপাশে কোথাও টকটক করে শব্দ হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর রানা বুঝল এটা একটা কোড। রানা স্পাইয়ের একটা ভাষায় কোডটা ডিকোড করল। ঠিক রাত ৩ টায় ২০ মিনিটের জন্য সেলের সিকিউরিটি গার্ড থাকবে না। গার্ড চাবিটা দরজায় ঝুলিয়ে যাবে। তাকে কনডেম সেলের ৫ নম্বর রুমে প্রবেশ করতে হবে। সেখানেই রানার অপারেশন!

১০- সিকিউরিটি গার্ড চাবিটা জায়গামতই রেখে গেছে। রানার সেলের দরজার চাবিটাও খোলা। চাবি নিয়ে মাসুদ রানা এক এক করে রুম নম্বর চেক করতে করতে ৫ নম্বর সেলের সামনে এসে দাঁড়াল। রানা সেলের দরজায় চাবি ঢোকাল। ধীরে ধীরে দরজা খুলল যাতে শব্দ না হয়। ভেতরে ফাঁসির আসামী ঘুমাচ্ছে। তার কপালে হাত দেয়া। চোখ বন্ধ অবস্থাতেই তিনি বললেন ” ওয়েলকাম মাসুদ রানা!”

১১- রানার পরিচয় এই নাইরোবিতে মাত্র ২ জনের জানার কথা। একজন নাইরোবির বাংলাদেশে দূতাবাসের ফার্স্ট অফিসার মোখলেস আর আরকজন সদ্য জয়েন করা বিসিআই এজেন্ট পুষ্পিতা। কিন্তু এই লোক জানল কীভাবে?

১২-উত্তরটা তিনি নিজেই দিলেন “৩০ বছর কেনিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দায় চাকরি করেছি। ৫ বছর এর প্রধান ছিলাম। সংস্থায় আমার অনেক ভক্ত এখনও আছে। এয়ারপোর্টে যখনই প্রবেশ করেছ তখনই তোমার খবর আমার কাছে এসেছে। আমি তখনই বুঝে ফেলেছি আমার বন্ধু মেজর জেনারেল রাহাত খান তোমাকে পাঠিয়েছে। তা তুমি যে আমাকে উদ্ধার করতে আসো নাই তা বুঝে ফেলেছি। কিন্তু তুমি কেন এসেছ সেটা এখনো ক্লিয়ার না।

১৩- স্যার আপনাকে একটা প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য এখানে পাঠিয়েছেন। এজন্য অলরেডি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আগামীকাল সকালে আসল আব্দুল্লাহ কে বিসিআই এজেন্টরা নাইরোবিতে নিয়ে আসার পরে আমাকে জেল থেকে বের করে দিবে। আর এখন আমার হাতে আছে মাত্র ১৫ মিনিট। আপনি দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।

বলো কী জানতে চাও। অবশ্য আমার সময় ও বেশি নেই। কাল বাদে পরশু আমার ফাঁসি হবে।

” আপনি রাহাত খান স্যারের ফেইসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে আছেন লাস্ট ১০ বছর হলো। আপনি জানেন ওনার ফ্রেন্ড লিস্টে ঠাই পাওয়া কত কস্টের। হাজার হাজার ফেইসবুকারের মধ্যে উনি আপনাকে ফ্রেন্ড লিস্টে ঠাই দিয়েছেন। আপনি প্রতিদিন মজা করে ওনার পোস্ট পড়েন কিন্তু স্যারের প্রশ্ন হলো এত কস্ট করে যে উনি পোস্ট লিখেন আপনি সেই পোস্টে লাইক কমেন্ট করেন না কেন?”

-ফখরুল ইসলাম এর ফেসবুক থেকে।।