অদৃশ্য ভাইরাস ভয়ে অপূর্ণ ঈদ কেটেছে ত্রিশালে

শামিম ইশতিয়াক:: রমজানের এক মাস সংসমের পর মুসলিম উম্মাহর মাঝে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঈদের আমেজে মেতে উঠে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ, দলবেধে ঈদগাঁতে ছুটে চলা, পরিবার নিয়ে বাইরে বের হওয়া, বন্ধু বান্ধব নিয়ে হৈ-হোল্লা, পর্যটন কেন্দ্র, বিনোদন কেন্দ্র এবং অবকাশ কেন্দ্রগুলোতে জমায়েত হওয়াটা যেনো প্রতি ঈদুল ফিতরের এক পরিচিত দৃশ্য, এই ঈদ যেনো গোটা বিশ্বে সম্প্রতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে।

কিন্তু এইবার যেনো ছিলো সব কিছুই ব্যাতিক্রম, চিরচেনা ঈদ আমেজের ধারাবাহিকতায় আঘাত করলো অদৃশ্য শক্তি কোভিট-১৯ , মহামারীতে রূপ নেয়া করোনা ভাইরাসের জন্য বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ঈদ উৎসব পালন করেছে সাবধানতা ও সতর্কতার সাথে, তার ব্যাতিক্রম হয়নি বাংলাদেশেও।

সুতিয়া সন্তান ত্রিশাল উপজেলাতেও ছিলো সমাজ চিত্র, “ত্রিশাল প্রতিদিনে”র সরেজমিনে পর্যালোচনায় দেখা গেছে উপজেলায় কোন ঈদগাঁতে অনুষ্ঠিত হয়নি ঈদের জামাত, মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে সংক্রমণের ভয়ে মসজিদ আঙ্গিনা ত্যাগ করে মুসল্লিরা, প্রতি ঈদে যে চিত্র চোখে পড়তো তা যেনো হারিয়ে যাওয়া কোন এক ইতিহাসের স্মৃতিচারণ হয়েই বেচে ছিলো কাল।

সচরাচর ঈদে ত্রিশালের বিভিন্ন রাস্তায় দেখা মিলতো ভীড়, নতুন জামা কাপড়ে বের হতো নানান বয়সী মানুষ, দেখা মেলতো শিশু কিশোরিতেই নতুন জামায়, চোখে রঙ্গিন সানগ্লাস দিয়ে উৎসব পালনে ব্যাস্ত হতো তারা, বাইক নিয়ে দলবেধে দেখা মিলতো যুবক শ্রেণীতে, কিংবা পায়ে হাটা আমেজে ব্যাস্ত যুবতীদের দেখা মিলতো রাস্তায় রাস্তায় কিন্তু এই ঈদে রাস্তা ছিলো তার নিরব নিথর থাকার বাস্তবতা প্রমানে ব্যাস্ত, হাতেগোনা কিছু মানুষ চোখে পড়লেই করোনা ভাইরাস ভয়ে ঘর থেকে বের না হওয়ায় চোখে পরেনি কোন চলাচলের সেই প্রাচীন দৃশ্য।

ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইপাস রাস্তায় প্রতি ঈদেই থাকতো উপচেপড়া ভীড়, পাঞ্জাবী কিংবা শাড়ীতে আড্ডা জমাতো জুটি, ক্যাম্পাসে জ্বলতো ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, কিংবা সেলফির বাহারে থাকতো আনন্দের পূর্ণতা কিন্তু এই ঈদে ছিলোনা এমন কিছুই, লক ডাউন থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনি দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়নি ক্যাম্পাসে, বাইরের রাস্তায় কিছু মানুষের উপস্থিতি থাকলেও হয়নি তেমন ভীড়।

এছাড়াও ত্রিশালের নামাপাড়ার বটতলা, নামাপাড়ার নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র (নজরুল জাদুঘর), ত্রিশাল সেনানিবাস, সতেরো পাড়া বিলপাড়, কারিগরি কলেজ ক্যাম্পাস, বালিপাড়া রাস্তার পাশ সংলগ্ন সবুজ প্রাঙ্গন বালিপাড়া ব্রীজ, বইলর পার্ক, কালির বাজার ব্রম্মপুত্র চর, চুরখাই প্রিয় কুঞ্জ পার্ক, কোনাবাড়ি নদীর পাড়ের মনোরম রাস্তা, কোনাবাড়ির প্রাচীন মিলার বাড়ি ও ক্ষুদ্র বনাঞ্চল, ধানীখোলা রেমি ফিশারি কিংবা সাখুয়ার বিখ্যাত দেখা মেলেনি তেমন কোন দর্শনার্থীদের, যেখানে সকল ঈদেই থাকতো ভীড়, আনন্দের পূর্ণতা নিতে ছুটে আসতো প্বার্শবর্তী উপজেলার মানুষ কিন্তু এই ঈদে যেনো এই স্থানগুলো ছিলো ফাকাপ্রায়, হাতেগোনা কয়েকজন ছিলো তারাও স্থানীয় মানুষ সব মিলিয়ে এক অপূর্ণ আনন্দের ঈদ ছিলো এসব দর্শনীয় স্থানে।

গোটাবিশ্ব যেখানে স্তব্দ সেখানে ঈদ টা শুধু বেচে থাকার যুদ্ধ, বেচে থাকার সংগ্রামে সবাই অপেক্ষা করছে একটি সুস্থ পৃথিবীর, ঈদ আনন্দ সহ অন্যান্য উৎসবে সম্মিলিত অংশগ্রহণ কিংবা পরিপূর্ণ আনন্দে মেতে উঠতে অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা বিশ্ব।